যুবলীগে অভিযান শুরু

যুবলীগে অভিযান শুরু

জানা গেছে, রাজধানীর কাকরাইলে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের ভবন নির্মাণ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ পেয়ে প্রধানমন্ত্রী গত বছর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন যুবলীগের ওপর। এই চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে যুবলীগ দক্ষিণের এক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও। প্রধানমন্ত্রী তখনি ওই নেতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশও দিয়েছিলেন।

কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে তখন তিনি দেশের বাইরে  চলে যান। এরপর রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী মহল দেনদরবার করেন তার জন্য। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তার ওপর এখনো চাপ রয়েছে। তিনি কিছুটা দমে গেলেও সহযোগীরা এখনো বেপরোয়া। দক্ষিণেরই সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলাফেরা এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।

যুবলীগ সিনিয়র নেতারা বলেন, যেসব নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিচার হবে যুবলীগের নিজস্ব ট্রাইব্যুনালে। বিচার প্রক্রিয়া শুরুর জন্য এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এবিষয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী জানান, যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি সম্রাট ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে সংগঠনের ট্রাইব্যুনালে ডাকা হচ্ছে।

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশীদ বলেন, এই ট্রাইব্যুনাল চালু আছে অনেক আগে থেকেই। ওই ট্রাইব্যুনালের প্রধান হলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। আর প্রেসিডিয়াম সদস্যরা হলেন এর মেম্বার। যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই ট্রাইব্যুনাল বসে।

ওই বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নেতা জানান, শেখ হাসিনা যুবলীগের কয়েকজন নেতার নাম ধরে বলেন, ওরা শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তবে যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি আঞ্জুমানের কাছ থেকে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র উঁচিয়ে চলার অভিযোগের তদন্ত চলছে। তার এলাকার কিছু যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো কারা করে আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে ইসমাইল হোসেন সম্রাট বলেন, আমরা শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যা বলবেন তাই হবে।

 

কেএন/ফাস্টরিপোর্ট

Facebook Comments